
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবিলম্বে যোগদান দাবিতে ১০ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগ বাতিল হওয়া চাকরি প্রার্থীরা। রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পুলিশের লাঠিপেটার পরও আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকা ছাড়েননি। এ ঘটনায় শাহবাগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং দুপুরের পর থেকে শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি পালনকালে যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। এতে শাহবাগ, ফার্মগেট, বাংলা মোটর, পল্টন প্রেসক্লাব এলাকায় দিনভর যানজট ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। ৎ
বিকেল সাড়ে ৪ টার পর শাহবাগ থানা পুলিশ আন্দোলনকারী কয়েকজনকে আটক করলে, এবং বাকিদের লাঠি চার্জ করে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শাহবাগ ছেড়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ করেন চাকরি প্রার্থী আন্দোলনকারীরা।
বিকেল ৫ টার পর জাদুঘরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক পিয়াস তালুকদার। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে চাকরি প্রার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করানোর ঘোষণা দিতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে বৈষম্যমূলক কোনো রায় মেনে নেওয়া হবে না। আন্দোলনকারী নারী সদস্যদের পুলিশ হেনস্তা করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
দুপুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা জাদুঘরের সামনের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে আন্দোলনরত পুরুষ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন চাকরিপ্রার্থী নারী সদস্যরা। পুলিশের বাধার মুখেও এক পর্যায়ে তারা শাহবাগ মোড়ে বসে পড়েন। এরপর পুলিশ নিয়ে আসে জলকামান। চাকরি প্রার্থী নারী সদস্যদের উপর দফায় দফায় জল কামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। কিন্তু শাহবাগ মোড় না ছেড়ে বরং অনেক নারী শুয়ে পড়েন ঘটনাস্থলে। জল কামানের পানির তোড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েক আন্দোলনকারী। এ সময় অনেক নারী চাকরি প্রার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।