বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

| ২০ চৈত্র ১৪৩১

Campus Bangla || ক্যাম্পাস বাংলা

২০ লক্ষ টাকার ক্রিকেট পিচে খেলার সুযোগ বঞ্চিত নোবিপ্রবি  শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২২, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

২০ লক্ষ টাকার ক্রিকেট পিচে খেলার সুযোগ বঞ্চিত নোবিপ্রবি  শিক্ষার্থীরা

দৃশ্যমান থাকলেও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তৈরি করা ক্রিকেট পিচ। বিশেষজ্ঞ দ্বারা তৈরি অত্যাধুনিক এই পিচ তৈরি করতে ব্যয় করা হয় ২০ লক্ষ টাকা। কিন্তু পরিচর্যা ছাড়াই পড়ে রয়েছে এটি। এতে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মাঠে পিচের এক পাশে পড়ে আছে মাটি সমান করার রোলার। কৃত্রিমভাবে লাগানো উন্নতমানের ঘাসগুলো হলুদ হয়ে আছে। উঠেছে বিভিন্ন ধরনের আগাছাও। আশপাশের মাটি থেকে উঁচুতে পিচ হওয়ায় যাচ্ছে না খেলা। মাঠের একপাশে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলতে দেখা গেলেও ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, বিগত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এতে মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, ক্রিকেট প্র্যাকটিস নেট তৈরি এবং ক্রিকেট মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকেই ছিলো কাজে নিম্নমানের অভিযোগ। মান খারাপ হওয়ায় প্র্যাকটিস নেট ও ক্রিকেট পিচ প্রথমবারের পর আবার পুনরায় তৈরি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়,  ক্রিকেট পিচ তৈরির জন্য প্রথমবার বরাদ্দ দেওয়া হয় সাতাত্তর হাজার দুইশত আটাশি  টাকা। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় পরবর্তীতে ক্রিকেট পিচ তৈরির বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসে বিগত প্রশাসন।নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয় বিশ লক্ষ আঠারো হাজার একশত আটষট্টি টাকা। এর মধ্যে নলকূপ স্থাপন, কৃত্রিম ঘাস লাগানো, মাটি ভরাট, জিট্যাক্সটাইল ফ্যাব্রিক্সসহ উন্নত মানের বিভিন্ন উপকরণ স্থাপন করা হয়। শুধুমাত্র কৃত্রিম টার্ফ ঘাস লাগাতেই ব্যয় করা হয় প্রায় বিরানব্বই হাজার টাকা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তদারকি না থাকায় তা ইতিমধ্যে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ব্যয় করা হয় বিশ লক্ষ বিরানব্বই হাজার আটশত সাইত্রিশ টাকা। তবে সেটিও মাঠের চারপাশে নির্মাণ করা হয়নি, বাউন্ডারি চিহ্ন হিসেবে মাঠের চার কোণায় নির্মাণ করা হয়েছে। ক্রিকেট প্র্যাকটিস নেট তৈরিতে ব্যয় হয় আট লক্ষ তিরানব্বই হাজার তিনশত তেত্রিশ টাকা।

বাকি দুটি কাজ শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হলেও পরিপূর্ণ হয়নি ক্রিকেট মাঠ তৈরি। শুধুমাত্র ক্রিকেট পিচ তৈরি করেই ফেলে রাখা হয়েছে। করা হয় না পরিচর্যা, পিচের আশপাশে মাটি না থাকায় যাচ্ছে না খেলা। ফলে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে সেটি। মাটি ভরাট ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না ক্রিকেট খেলা আয়োজন করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট দলের বোলার আব্দুল্লাহ ইউসুফ বলেন, “আমাদের সমসাময়িক বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাঠে ক্রিকেট পিচ আছে৷ শুধুমাত্র আমাদের মাঠেই নাই। যার ফলে আমাদের ম্যাচ খেলতে হয় নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে অথবা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। আমরা প্র‍্যাক্টিস করি ২ মাস। এরপরে এই অল্প প্রস্তুতি নিয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এমন সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে খেলি যাদের নিজস্ব মাঠ আছে। যারা অধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়, নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পায়।”

আরেক শিক্ষার্থী  ফয়েজ আহমদ বলেন, “আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতাগুলো ক্রিকেট বলেই অনুষ্ঠিত হয় এবং আমরা নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে থাকি। কিন্তু নিজস্ব পিচ এবং গ্রাউন্ড না থাকায় নোবিপ্রবি ক্রিকেট টিম বছরে সর্বোচ্চ দুই-তিনটি প্র‍্যাক্টিস ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে। এতে করে আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে কিন্তু তারা নিজেদেরকে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইভেন্টের জন্য প্রস্তুত করতে পারছে না।”

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি শরীরচর্চা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব কুমার দে বলেন, “আমরা মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়ার পর প্রথমবার যাদের দিয়ে কাজ করিয়েছি তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না, ফলে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ বুঝে পাইনি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর ঐ কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। সেখানে সেন্ট্রাল পিচের সাথে মাটি ভরাটের বিষয়টি ছিলো কিন্তু তারা কেনো সেটি না করে শুধু পিচ কেনো তৈরি করেছে আমার তা জানা নেই।”

পিচের কেন পরিচর্যা করা হয় না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেহেতু মাঠ তৈরি পুরোপুরি হয়নি তাই এখন পরিচর্যা করলেও তা কাজে আসবে না, যখন মাঠ প্রস্তুত হয়ে যাবে তখন পরিচর্যা স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যাবে। আর আমাদের গ্রাউন্ডম্যান নাই তাই কাজ করাও সম্ভব না।”

শরীরচর্চা বিভাগের পরিচালক ড. মো. আমজাদ হোছাইন বলেন, “বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমি দায়িত্ব পেয়েছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর সবকিছু খোঁজখবর নিয়েছি৷ যে যে সমস্যা গুলো চিহ্নিত হয়েছে তা নিয়ে ভিসি স্যারের সাথে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করবো। আশা করি ক্রিকেট মাঠ সহ বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে পারবো।”

মাটি ভরাটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসাইন বলেন, “শরীরচর্চা বিভাগকে প্রথমে দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের। তারা যখন সেটি করতে পারেনি তখন আমাদের দেওয়া হয় আমরা সেটা করে দিয়েছি। আমাদের শুধুমাত্র পিচ তৈরির বাজেট হয়েছে আমরা ঐটা করেছি। মাটি ভরাট করার জন্য কোন অর্থ দেওয়া হয়নি।”

এসময় তিনি শরীরচর্চা বিভাগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা একটি মাঠ রোলার দিয়ে সমান করবে সেটাও পারে না। একটা ক্রিকেট পিচ তৈরি করতে পারে না। তাহলে তাদের কাজ কি?”

নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মাধ্যমে মানসিক বিকাশ ঘটে। ক্রিকেট পিচের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। বিগত প্রশাসন কাজটি সম্পূর্ণ করেনি সেটি আমি ইতিমধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। পিচের আশপাশে মাটি ভরাটের জন্য ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। আশা করি মাটি ভরাট হয়ে গেলে ক্রিকেট মাঠটি পরিপূর্ণতা পাবে এবং শিক্ষার্থীরা খেলতে পারবে।”